Published On: Tue, Aug 28th, 2018

মোসাদ্দেকের নারী ও মদ কেলেঙ্কারি, যা বলল বিসিবি

মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ক্রিকইনফোতে দেয়া প্রোফাইলে দেখা যাচ্ছে তার বর্তমান বয়স ২২ বছর। তার জন্ম ১০ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ সালে, ময়মনসিংহে। অথচ গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার কাবিননামায় দেখা যাচ্ছে তিনি বিয়ে করেছেন ২০১২ সালের ২৮ অক্টোবর। অর্থাৎ, মাত্র ১৬ বছর বয়সেই সামিয়া শারমিনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বর্তমান জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এটা কিভাবে সম্ভব? এটা তো রীতিমতো বাল্য বিবাহ!

তার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নং আমলি আদালতে স্ত্রীর মামলা করার পর বেরিয়ে আসছে নানা তথ্য। জানা গেছে, ২০১২ সালে মোসাদ্দেক যখন বিয়ে করছিলেন, তখন তিনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য। তবে বিয়ের কাবিন নামায় বয়স নিয়ে কিছুটা জালিয়তির আশ্রয় নেয়া হয়। ওই সময় তার বয়স লিখা হয় ২২ বছর।

জানা গেছে, বিয়ের পর মোসাদ্দেক হোসেন খবরটি দীর্ঘদিন গোপন রাখেন। নিজের শশুরবাড়ির লোকজনকেও এই বলে বোঝান যে, বিসিবি এত অল্প বয়সে বিবাহিতদের দলে নেয় না। সুতরাং, বিয়ের খবর যেন তারা গোপন রাখে।

এরই মধ্যে মোসাদ্দেক তার অসাধারণ প্রতিভা দেখিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নেয় এবং রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়ে যায়। এই খ্যাতিই তার পারিবারিক জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ায়। খ্যাতির মোহে মোসাদ্দেক জড়িয়ে পড়েন নানা সম্পর্কে। এই অভিযোগ করেন মোসাদ্দেকের স্ত্রী সামিয়া শারমিনের বড় ভাই মোজাম্মেল কবির।

জানা গেছে, মোসাদ্দেক তার স্ত্রীকে ঢাকায় রাখতে রাজি নন। ময়মনসিংহেই রেখে আসেন তাকে। তবে ধীরে ধীরে তার স্ত্রী মোসাদ্দেকের গোপন কার্যকলাপ জেনে যায় এবং এর প্রতিবাদ করে। ফলে তার ওপর নেমে আসে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। একই সঙ্গে বাসায় বসে মদও পান করেন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার। এর প্রতিবাদ করায়ও শারীরিক নির্যাতনের স্বীকার হন সামিয়া শারমিন।

মোসাদ্দেকের স্ত্রীর বড় ভাই মোজাম্মেল কবির নিজেই অভিযোগের বিষয়গুলো একটি গণমাধ্যমকে জানান। তিনি বলেন, ‘ছয় বছর আগেই মোসাদ্দেক এবং সামিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর ভালো কাটলেও যখনই মোসাদ্দেক সৈকত জাতীয় দলে নিয়মিতভাবে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই তার নৈতিক স্থলন ঘটতে শুরু করে।’

মোজাম্মেল অভিযোগ করে বলেন, ‘সে (মোসাদ্দেক) ঘরে বসে বন্ধুদের নিয়ে মদপান করতে শুরু করে। অন্য নারীতে আকৃষ্ট হওয়া, তথা নানা অসামাজিক কার্যক্রমে লিপ্ত হতে থাকে। আমার বোন তাকে ওইসব অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধের কথা বলতেই সে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে। তা থেকেই শুরু হয় বিবাদ ও দূরত্ব। আমরা বুঝতে পারি তারকা খ্যাতি, নাম-ডাক ও অর্থ তাকে বদলে দিয়েছে।’

দেশের সকল গণমাধ্যমে যখন মোসাদ্দেক কে নিয়ে আলোচনা, তাতে বিসিবির ভিতরকার প্রতিক্রিয়া কি? বোর্ড কর্মকর্তাদের অনুভুতি কি? তারা বিষয়টিকে কিভাবে নিয়েছেন?

এবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন বিসিবি প্রধাননির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা প্রচার মাধ্যমের কাছ থেকে জেনেছি, দেখেছি মোসাদ্দেকের স্ত্রী মামলা করেছেন।’

বলার অপেক্ষা রাখে না, নারী নির্যাতন ও শিশু আইনে মামলা। প্রায় একই ধরনের অভিযোগে গত তিন বছরের বেশি সময় অভিযুক্ত হয়েছেন বর্তমান প্রজন্মের বেশ ক’জন নামী ও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার রুবেল, শহীদ, আরাফাত সানি, সাব্বির এবং নাসির হোসেন। এর মধ্যে নাসির ও সাব্বিরের বিপক্ষে নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অভিযোগ আছে। নাসিরের বিপক্ষে অভিযোগটা ওপেন সিক্রেট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে রয়েছে। এবং সর্বশেষ মোসাদ্দেক। এখানেও সেই নারী নির্যাতন কেস।

খুব স্বাভাবিকভাবেই বোর্ডের অভ্যন্তরে একটা অন্যরকম প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এবং প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজনের কথায় পরিষ্কার, বোর্ড বিষয়টাকে আমলে নিয়েছে।

সুজন আরও বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টা আদালতে চলে গেছে গেছে। আদালতে নিষ্পত্তি হোক। তবে আমরা আমাদের বিষয়গুলোকে আমাদের মত করে দেখব। হয়ত খুব শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে নিজেরা বসব এবং সংশ্লিষ্ট প্লেয়ারদের ডাকা হবে। তাদের বক্তব্য শুনব।’

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>