মুখে মেছতা হলে করণীয় কী? জেনে নিন পরামর্শ!

মেছতা এক ধরনের লালচে দাগ, যা পরে কালো হয়। ত্বকের যেকোনো স্থানে মেছতা হতে পারে। তবে গালের ওপরের দিকে বেশি হয়। অনেক সময় চোয়ালে, নাকের ওপর ও কপালেও এর বিস্তৃতি ঘটে। অনেক ক্ষেত্রেই মেছতার সুস্পষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে হরমোনের তারতম্য একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত। নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন, ইস্ট্রোজেন হরমোনথেরাপি গ্রহণ, গর্ভাবস্থায় শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব ইত্যাদিকে মেছতার জন্য দায়ী মনে করা হয়। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি যদিও মেছতার একটি কারণ, তবে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলেই মেছতা হবে এমন নয়। আবার জীবনে এক দিনও এই বড়ি খাননি অথচ মুখে মেছতার দাগ হয়েছে-এমনও হতে পারে।

ধরন: তিন ধরনের মেছতা দেখা যায়। অ্যাপিডার্মাল, ডার্মাল ও মিশ্র। অ্যাপিডার্মাল ত্বকের উপরিস্তরে থাকে। এটি চিকিৎসায় সম্পূর্ণ ভালো হয়। ডার্মাল ধরনেরটি হলে বহির্ত্বকের নিচে মেছতার বিস্তৃতি থাকে। এটিও চিকিৎসায় ভালো হয়। আর মিশ্র ধরনের মেছতা বহির্ত্বক ও অন্তর্ত্বকে থাকে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসায়ও ভালো ফল না-ও হতে পারে। মেছতা ত্বকের কোন স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা জানতে উড ল্যাম্প নামের একটি পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।

চিকিৎসা: মেছতার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত হয় হাইড্রোকুইনন। এর সঙ্গে ট্রেটিনয়েন ও স্টেরয়েড মিশিয়ে চিকিৎসা দিলে দ্রুত দাগ মিলিয়ে যায়। তবে অনেকে অজ্ঞতার কারণে ভেটনোভেট ধরনের ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করেন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়। মেছতার সবচেয়ে আধুনিক চিকিৎসা হলো, মাইক্রোডার্মো অ্যাব্রেশন। এতে যন্ত্রের সাহায্যে ব্যথামুক্তভাবে ত্বকের সবচেয়ে ওপরের স্তর তুলে আনা হয়। এরপর ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, যাতে দ্রুত মেছতা সেরে যায়। লেজারের মাধ্যমেও এখন চিকিৎসা হচ্ছে।

প্রতিরোধে করণীয়: চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু বিষয় মেনে চলা খুব জরুরি। যেমন-সূর্যের আলোর সরাসরি স্পর্শ এড়িয়ে চলা। যত ভালো চিকিৎসাই করানো হোক না কেন, সূর্যের আলোতে গেলে আবার মেছতার দাগ ফিরে আসতে পারে। তাই দিনের বেলা ঘরের বাইরে বের হলে সানব্লক বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। অনেকেই সানস্ক্রিন মেখেই বাইরে চলে যান। মনে রাখা দরকার, ভালো ফল পেতে ঘরের বাইরে বের হওয়ার অন্তত আধাঘণ্টা আগে এটি মাখা উচিত।

মেছতা বড় সমস্যা নয় মেয়েদের মুখে, গাল ও চোয়ালের ওপর যে কালচে দাগ পড়ে, তাকে চলতি কথায় মেছতা বলা হয়। এর আসল নাম মেলাজমা। মাঝে মাঝে মুখ ছাড়াও চিবুক ও বাহুর উপরিভাগেও মেছতার কালো ছোপ পড়তে পারে। মেছতার এই দাগ স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ব্যাহত করে এবং এর জন্য অনেকে নানা ধরনের টোটকা চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। কিন্তু এর চিকিৎসা আছে, তাই দুশ্চিন্তার কিছু নেই। গর্ভধারণ করার পর হরমোনের প্রভাবে অনেক সময় মুখে মেছতা পড়তে পারে। বংশগতির প্রভাব, অতিরিক্ত সূর্যালোক, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হরমোনের সমস্যা, যেমন থাইরয়েড বা ডিম্বাশয়ের সমস্যায় এটা হতে পারে। ত্বকের কালো রঙের জন্য দায়ী যে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থ, এতে সেই পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায়। এবার আসুন, জেনে নিই এই বিরক্তিকর সমস্যা থেকে কীভাবে রেহাই পাওয়া যায়। গর্ভধারণকালে যে মেছতা পড়ে, তা সন্তান জন্মের পর এমনিতেই কমে যায়। রোদে বা বাইরে বের হলে উচ্চ এসপিএফযুক্ত সানব্লক ব্যবহার করুন। প্রচণ্ড রোদে ছাতা ব্যবহার করুন। হরমোনের সমস্যা আছে কি না, শনাক্ত করে চিকিৎসা নিন। হাইড্রোকুইনোন সমৃদ্ধ ব্লিচিং ও ভিটামিন এ যুক্ত ক্রিম অনেক সময় ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। এ ছাড়া মেথিমাজোল, এজেলিক অ্যাসিড, স্টেরয়েড ক্রিম ইত্যাদিও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু মনে রাখবেন, এগুলো প্রসাধন ক্রিম নয়, এগুলো ওষুধ। তাই ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে কেমিক্যাল পিলিং এবং লেজার চিকিৎসাও দেওয়া হয়।

ঘরোয়া উপায়: মেছতার সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় অনেককেই। মেছতা হওয়ার অন্যতম কারণ অপরিচ্ছন্ন ত্বক। ঘরোয়া উপায়ে মেছতা দূর করা ও ত্বক পরিষ্কার করার উপায়-  লেবু: ত্বককে উজ্জ্বল করতে, ত্বকের কালো দাগ দূর করতে লেবুর জুড়ি নেই। এটি ব্লিচের কাজ করে। লেবুর রসের উচ্চমাত্রার সাইট্রিক এসিড ত্বকের অধিক তেল শোষণ করে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে। তাজা লেবুর রস ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১৫ থেকে ২০ মিনিট। এটি প্রতিদিন অথবা সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করুন। এক চা চামচ লেবুর রসের সঙ্গে এক চা চামচ টমেটোর রস মিশিয়ে এটি ত্বকে লাগিয়ে হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন এবং ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এক মাস এটি করলে ত্বকের মেচতা দূর হবে।  টমেটো: টমেটোর রস ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এটি ত্বকের কালো দাগ দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। টমেটোর পাল্প ত্বকে ম্যাসাজ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট এবং ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রতিদিন অথবা সপ্তাহে তিন- চার দিন ব্যবহার করুন। এটি ত্বককে পরিষ্কার ও সজীব করে।  আলু: আলুর রস মেচতার দাগ দূর করতে সাহায্য করে। এটি চোখের চার পাশে জমে থাকা কালো দাগ (ডার্ক সার্কেল) দূর করতে সাহায্য করে।  মুলতানি মাটি: মুলতানি মাটি ত্বকের মরা কোষ পরিষ্কার করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের এক্সট্রা অয়েল শুষে নিয়ে ত্বককে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করে। গোলাপজল, সবুজ চা, শসার রস, লেবুর রস এবং পানি ও মুলতানি মাটির মিশ্রণটি তৈরি করে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এক চা চামচ টমেটোর রস এবং চন্দন গুঁড়া, দুই চা চামচ মুলতানি মাটি একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটা সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করতে পারেন।  অ্যালোভেরা: অ্যালোভেরা জেল ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। সম্পূর্ণ জেল ত্বকে শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরা জেল দুই চা চামচ, এক চা চামচ লেবুর রস এবং চিনি একসাথে মিশিয়ে হালকাভাবে ত্বকে ঘষুন। ১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এটি ব্যবহার করুন।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>