নেইলপলিশ ব্যবহারকারীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে!

সৌন্দর্যসচেতন তরুণীদের কাছে নেইলপলিশ অপরিহার্য এক প্রসাধনী। বাজারে গিয়ে হয়তো অনেক বাছাই করে ব্র্যান্ড আর রঙ পছন্দ হলে তবেই কিনছেন এটি। কিন্তু কখনো এর স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি খেয়াল করা হয়নি। গবেষকরা বলছেন, ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত অন্যান্য প্রসাধনীর মতো নেইলপলিশও মারাত্মক ক্ষতিকর। এটা ত্বকের ক্ষতি করার পাশাপাশি ক্যান্সারের ঝুঁকিও তৈরি করে।

২০০৬ সালে নেইলপলিশ ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। সেখানে বলা হয়, নেইলপলিশের বিষাক্ত তিনটি উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এগুলো নখ অথবা ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে নানামুখী ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমনকি নামকরা ব্র্যান্ডের নেইলপলিশেও এ উপাদানগুলো ব্যবহার করা হয়। ‘দ্য টক্সিক ট্রায়ো’ বলে খ্যাত নেইলপলিশের এ উপাদানগুলো হলো ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য পরিচিত ‘ফরমালডিহাইড’, ‘টোলিউইন’ ও ‘ডিবিপি’। প্রথম উপাদানটি নেইলপলিশকে শক্ত করে, দ্বিতীয়টি রঙের স্থায়িত্ব সৃষ্টি করে ও তৃতীয়টি চাকচিক্য বাড়ায়।

তখন বেশ কয়েকটি কোম্পানি নিজ উদ্যোগেই তাদের নেইলপলিশ থেকে ক্ষতিকর এ উপাদানগুলো সরিয়ে নেয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না। ২০১২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার বিষাক্ত উপাদান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু কোম্পানি শুধু তাদের ব্র্যান্ডের নামটাই পরিবর্তন করেছে। ক্ষতিকর উপাদানগুলো ব্যবহার বন্ধ করেনি।
এছাড়া অনেক গবেষক নখের স্যালনে কর্মরতদের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এসব শ্রমিক সরাসরি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। স্যালনগুলোর আরো নিয়ম মেনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত। নিরাপদ প্রসাধনী ক্যাম্পেইনের অন্যতম জ্যানেল নুডেলম্যান জানান, কেউ নেইলপলিশ ব্যবহারের ক্ষতির বিষয়ে বলছেন না। এটা ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

শুধু বড়রাই নন, এ বিষয়ে শিশুদের ঝুঁকি কোনো অংশে কম নয়। নেইলপলিশ তাদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে এটা ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। চিকিত্সকরা বলছেন, যাদের আঙুল চোষার অভ্যাস রয়েছে, তাদের বেশি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষতির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তরুণীরা সহজেই নেইলপলিশ ব্যবহার বন্ধ করে দেবেন, এমনটা বোধহয় হুট করেই ঘটবে না। তাই নুডেলম্যান তাদের পরামর্শ দিয়েছেন, তারা যেন নিরাপদ ব্র্যান্ডটি ব্যবহার করতে ভুলে না যান।

সবাই এখন যা পড়ছে :-  লিভার নষ্ট হয় বা পঁচে যায় কেন জানেন? রইলো ৯টি কারণ!  মানুষের দেহের প্রধান অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলোর মধ্যে অন্যতম হল লিভার। দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় লিভারের সুস্থতা অনেক জরুরী। কিন্তু কিছু বাজে অভ্যাসের কারণে প্রতিনিয়ত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে লিভার। এরই ফলাফল হিসেবে লিভার ড্যামেজের মতো মারাত্মক সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় অনেককেই। এই অঙ্গটি নষ্ট হওয়ার পিছনে কারণগুলি দেখে নেওয়া যাক:  ১. দেরি করে ঘুমোতে যাওয়া এবং দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা দুটোই লিভার নষ্টের কারণ। এতে শারীরিক সাইকেলের সম্পূর্ণ উল্টোটা ঘটতে থাকেএবং তার মারাত্মক বাজে প্রভাব পরে লিভারের উপরে।  ২. অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেও কুড়েমি করে প্রস্রাবের বেগ হলেও বাথরুমে না গিয়ে তা চেপে শুয়েই থাকেন। এতে লিভারের উপরে চাপ পড়ে এবং লিভার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়।  ৩. অতিরিক্ত বেশি খাওয়া দাওয়া করা লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর । অনেকেই আবাব বহুক্ষণ সময় না খেয়ে একবারে অনেক বেশি বেশি করে খেয়ে ফেলেন। এতে হঠাৎ করে লিভারের উপরে চাপ বেশি পরে এবং লিভার ড্যামেজ হওয়ার আশংকা থাকে।  ৪. সকালের খাবার না খাওয়ায় লিভার পক্ষে ক্ষতিকর। যেহেতু অনেকটা সময় পেট খালি থাকার কারণে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পাশাপাশি খাদ্যের অভাবে কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে লিভারও।  ৫. অনেক বেশি ঔষধ খেলে লিভার নষ্ট হয়৷ বিশেষ করে ব্যথানাশক ঔষধের জেরে লিভারের কর্মক্ষমতার হ্রাস পায়ে। এছাড়াও ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ক্ষতি হয় লিভারের। এতে করে লিভার ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়।  ৬. কেমিক্যাল সমৃদ্ধ যেকোনো কিছুই লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু আলসেমি ও মুখের স্বাদের জন্য আমরা অনেকেই প্রিজারভেটিভ খাবার, আর্টিফিশিয়াল ফুড কালার, আর্টিফিশিয়াল চিনি ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলি যা লিভার নষ্টের অন্যতম কারণ।  ৭. খারাপ তেল ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একই তেলে বারবার ভাজা খাবার বা পোড়া তেলের খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে লিভার তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে।  ৮.অতিরিক্ত কাঁচা খাবার খাওয়াও লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যেমন আপনি যদি খুব বেশি কাঁচা ফলমূল বা সবজি খেতে থাকেন তাহলে তা হজমের জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হয় পরিপাকতন্ত্রের। এর প্রভাব পড়ে লিভারের উপরেও। সুতরাং অতিরিক্ত খাবেন না।  ৯. অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্য পান করা লিভার নষ্টের আরেকটি মূল কারণ। অ্যালকোহলের ক্ষতিকর উপাদান সমূহ লিভারের মারাত্মক ক্ষতির কারণ।

সকাল বেলায় পান্তা ভাত খান ৭ দিন, ফলাফল জানলে চমকে যাবেন!  ৭ দিন পান্তা ভাত খান- বাঙালী মাত্রেই পান্তাভাত প্রেমী। পান্তাভাত খেয়ে দিবানিদ্রা দেয়নি এরকম বাঙালি হয়তো অনেক কষ্টে খুঁজে পাওয়া যাবে। চানাচুর, কাঁচালঙ্কা , পেঁয়াজ সহযোগে পান্তাভাত হল অমৃত। আসলে পান্তাভাত হল সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি। রাতের খাবারের জন্য রান্না করা ভাত বেঁচে গেলে সংরক্ষণের জন্য এই ভাতকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জল দিয়ে প্রায় এক রাত ডুবিয়ে রাখলেই তা পান্তায় পরিণত হয়। ভাত পুরোটাই শর্করা। ভাতে জল দিয়ে রাখলে বিভিন্ন ব্যাক্টেরিয়া বা ইস্ট এই শর্করা ভেঙ্গে ইথানল ও ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে। ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরির ফলে পান্তা ভাতের অম্লত্ব বেড়ে যায় (pH কমে) তখন পচনকারী ও অন্যান্য ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক ভাত নষ্ট করতে পারে না।  ১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে (১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর) ৭৩.৯১ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, যেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে থাকে মাত্র ৩.৪ মিলিগ্রাম। এছাড়াও ১০০ গ্রাম পান্তাভাতে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৩৯ মিলিগ্রাম এবং ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৫০ মিলিগ্রাম; যেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে ক্যালসিয়াম থাকে মাত্র ২১ মিলিগ্রাম। এছাড়া পান্তা ভাতে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে হয় ৩০৩ মিলিগ্রাম যেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে সোডিয়াম থাকে ৪৭৫ মিলিগ্রাম। পান্তা ভাত ভিটামিন বি-৬ এবং ভিটামিন বি-১২ এর ভালো উৎস। পান্তাভাত শর্করাসমৃদ্ধ জলীয় খাবার। গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা ও সতেজ রাখে। জলীয় খাবার বলে শরীরের জলের অভাব মেটায় এবং শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় রাখে। পান্তা ভাত খেলে শরীর হালকা এবং কাজে বেশি শক্তি পাওয়া যায়, কারণ এটি ফারমেন্টেড বা গাঁজানো খাবার। মানবদেহের জন্য উপকারী বহু ব্যাকটেরিয়া পান্তা ভাতের মধ্যে বেড়ে ওঠে। পেটের রোগ ভালো হয়, কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয় এবং শরীরে সজীবতা বিরাজ করে এবং শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় থাকে। এ ভাতে পেটের পীড়া ভালো হয়, কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয় এবং শরীরে সজীবতা বিরাজ করে। পাশাপাশি শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় থাকে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>