ভেজা জামাকাপড় ঘরে শুকাতে দেয়ার বিপদ ও প্রতিকার!

শহুরে জীবনে বেশিরভাগ লোকজনই এখন ফ্ল্যাট বাড়ির বাসিন্দা। ভাড়াবাড়িতে থাকলেও অনেকক্ষেত্রেই ছাদের মালিকানা থাকে গৃহকর্তারই। তাই জামা কাপড় কাচার পর তা ঘরেই শুকাতে বাধ্য হন গৃহিণীরা। আর এখানেই তৈরি হচ্ছে বিপদ।  কারণ বৃষ্টির দিনে ভেজা জামাকাপড় ঘরে শুকাতে দেয়া ঠিক না। এতে ঘর স্যাঁতসেতে হয় এবং রোগবালাই বাসা বাঁধে, যা পরে আক্রমণ চালায় ওই ঘরে বসবাসকারী শিশু ও বয়স্কদের। চিকিৎসকেরা বলেন, স্যাঁতসেতে ঘর মাত্রই রোগবালাইয়ের আঁতুর ঘর। সর্দি-কাশি-হাঁপানি ও ত্বকের বিভিন্ন রোগের ডিপো এই স্যাঁতসেতে ঘর। শহুরে জীবনে বেশির ভাগই ফ্যাট বাড়ির বাসিন্দা। তারা জামাকাপড় ধোয়ার পর ঘরেই শুকাতে দেন। ঘরে ভিজা কাপড়চোপড় শুকাতে দেয়ার অর্থই হলো চর্মরোগকে আমন্ত্রণ জানানো। কারণ, স্যাঁতসেতে পরিবেশেই বেড়ে ওঠে ছত্রাক। আর ওই সব ছত্রাকের আক্রমণে ত্বকে জন্মে দাদ, চুলকানি, একজিমার মতো সংক্রামক রোগ। দেহে এলার্জির কারণও ওই সব ছত্রাক। এ ছাড়া স্যাঁতসেতে ঘরে জন্ম নেয়া এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে সর্দি-কাশি ও হাঁপানির মতো ক্রনিক রোগ হয়। চিকিৎসকেরা বলেন, স্যাঁতসেতে পরিবেশে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। মূলত দীর্ঘদিন স্যাঁতসেতে বা ড্যাম্প ঘরে বসবাস করলে ক্রনিক অ্যাজমার শিকার হতে হয়। তাই বর্ষায় ভেজা কাপড়চোপড় ঘরে শুকাতে না দিয়ে বারান্দায় অথবা ছাদে শুকাতে দেয়া উচিত এবং ঘরের পরিবেশকে রাখা উচিত শুষ্ক ও পরিপাটি। একান্তাই যদি উপায় বের করতে না পারেন তাহলে জেনে নিন কী ভাবে বর্ষায় সহজে শুকোবেন জামা কাপড়।

১. জামা কাপড় ওয়াশিং মেশিনেই ধোয়া হোক বা হাতে। শুকাতে দেওয়ার আগে ভাল করে নিঙড়ে নিন। মেশিন দিয়ে না নিঙড়ালে হাতে নিঙড়ে নিন।  ২. যে ঘরে জামা কাপড় শুকাতে দিবেন সেই ঘরের জানালা খোলা রাখুন। যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।  ৩. নিঙরে নেওয়ার পর শুকাতে দেওয়ার আগে জামা-কাপড় খুলে ভাল করে ঝেড়ে নিন। এতে তাড়াতাড়ি শুকাবে।  ৪. যত পারবেন জামা কাপড় হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে শুকাতে দিন। এতে দু্ই জামার মাঝে জায়গা বাড়বে। বাতাস চলাচল করতে পারবে।  ৫. যেখানে জামা কাপড় শুকাতে দিবেন সেখানে পেডেস্টাল ফ্যান চালিয়ে রাখুন। এতে বাতাসে তাড়াতাড়ি শুকাবে।  ৬. যদি ঘরের মধ্যে দড়ি টাঙিয়ে শুকাতে দেন, তাহলে মাঝে মাঝে উল্টে দিন জামা কাপড়।  ৭. যখনই রোদ উঠবে বাইরে মেলে দিন জামা কাপড়। বাতাস বা রোদে শুকাতে দিন। আবার বৃষ্টি আসছে দেখলেই তুলে এনে ঘরে শুকাতে দিন। বার বার বৃষ্টিতে ভেজা উচিত না।  ৮. যদি কোনও জামা পরতেই হয়, কিন্তু দেখেন তা ঠিক মতো শুকায়নি, তবে ভেজা জামা ইস্ত্রি করে নিন বা ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে নিন।  ৯. বর্ষা কালে স্যাঁতস্যাতে ভেজা জামা কাপড় পরলে ত্বকেরও ক্ষতি হতে পারে। তাই যদি কোনও জামা ধুয়ে পরতেই হয় তাহলে ধোয়ার অন্তত ৩ দিন পর পরুন।  ১০. জামা কাপড় ধোয়ার সময় ক্লোথ সফেনার ব্যবহার করুন। এতে ভেজা গন্ধ কেটে গিয়ে মৃদু একটা ফ্রেশ গন্ধ হবে।

সবাই এখন যা পড়ছে :-  লিভার নষ্ট হয় বা পঁচে যায় কেন জানেন? রইলো ৯টি কারণ!  মানুষের দেহের প্রধান অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলোর মধ্যে অন্যতম হল লিভার। দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় লিভারের সুস্থতা অনেক জরুরী। কিন্তু কিছু বাজে অভ্যাসের কারণে প্রতিনিয়ত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে লিভার। এরই ফলাফল হিসেবে লিভার ড্যামেজের মতো মারাত্মক সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় অনেককেই। এই অঙ্গটি নষ্ট হওয়ার পিছনে কারণগুলি দেখে নেওয়া যাক:  ১. দেরি করে ঘুমোতে যাওয়া এবং দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা দুটোই লিভার নষ্টের কারণ। এতে শারীরিক সাইকেলের সম্পূর্ণ উল্টোটা ঘটতে থাকেএবং তার মারাত্মক বাজে প্রভাব পরে লিভারের উপরে।  ২. অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেও কুড়েমি করে প্রস্রাবের বেগ হলেও বাথরুমে না গিয়ে তা চেপে শুয়েই থাকেন। এতে লিভারের উপরে চাপ পড়ে এবং লিভার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়।  ৩. অতিরিক্ত বেশি খাওয়া দাওয়া করা লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর । অনেকেই আবাব বহুক্ষণ সময় না খেয়ে একবারে অনেক বেশি বেশি করে খেয়ে ফেলেন। এতে হঠাৎ করে লিভারের উপরে চাপ বেশি পরে এবং লিভার ড্যামেজ হওয়ার আশংকা থাকে।  ৪. সকালের খাবার না খাওয়ায় লিভার পক্ষে ক্ষতিকর। যেহেতু অনেকটা সময় পেট খালি থাকার কারণে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পাশাপাশি খাদ্যের অভাবে কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে লিভারও।  ৫. অনেক বেশি ঔষধ খেলে লিভার নষ্ট হয়৷ বিশেষ করে ব্যথানাশক ঔষধের জেরে লিভারের কর্মক্ষমতার হ্রাস পায়ে। এছাড়াও ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ক্ষতি হয় লিভারের। এতে করে লিভার ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়।  ৬. কেমিক্যাল সমৃদ্ধ যেকোনো কিছুই লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু আলসেমি ও মুখের স্বাদের জন্য আমরা অনেকেই প্রিজারভেটিভ খাবার, আর্টিফিশিয়াল ফুড কালার, আর্টিফিশিয়াল চিনি ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলি যা লিভার নষ্টের অন্যতম কারণ।  ৭. খারাপ তেল ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একই তেলে বারবার ভাজা খাবার বা পোড়া তেলের খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে লিভার তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে।  ৮.অতিরিক্ত কাঁচা খাবার খাওয়াও লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যেমন আপনি যদি খুব বেশি কাঁচা ফলমূল বা সবজি খেতে থাকেন তাহলে তা হজমের জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হয় পরিপাকতন্ত্রের। এর প্রভাব পড়ে লিভারের উপরেও। সুতরাং অতিরিক্ত খাবেন না।  ৯. অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্য পান করা লিভার নষ্টের আরেকটি মূল কারণ। অ্যালকোহলের ক্ষতিকর উপাদান সমূহ লিভারের মারাত্মক ক্ষতির কারণ।

সকাল বেলায় পান্তা ভাত খান ৭ দিন, ফলাফল জানলে চমকে যাবেন!  ৭ দিন পান্তা ভাত খান- বাঙালী মাত্রেই পান্তাভাত প্রেমী। পান্তাভাত খেয়ে দিবানিদ্রা দেয়নি এরকম বাঙালি হয়তো অনেক কষ্টে খুঁজে পাওয়া যাবে। চানাচুর, কাঁচালঙ্কা , পেঁয়াজ সহযোগে পান্তাভাত হল অমৃত। আসলে পান্তাভাত হল সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি। রাতের খাবারের জন্য রান্না করা ভাত বেঁচে গেলে সংরক্ষণের জন্য এই ভাতকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জল দিয়ে প্রায় এক রাত ডুবিয়ে রাখলেই তা পান্তায় পরিণত হয়। ভাত পুরোটাই শর্করা। ভাতে জল দিয়ে রাখলে বিভিন্ন ব্যাক্টেরিয়া বা ইস্ট এই শর্করা ভেঙ্গে ইথানল ও ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে। ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরির ফলে পান্তা ভাতের অম্লত্ব বেড়ে যায় (pH কমে) তখন পচনকারী ও অন্যান্য ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক ভাত নষ্ট করতে পারে না।  ১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে (১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর) ৭৩.৯১ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, যেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে থাকে মাত্র ৩.৪ মিলিগ্রাম। এছাড়াও ১০০ গ্রাম পান্তাভাতে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৩৯ মিলিগ্রাম এবং ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৫০ মিলিগ্রাম; যেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে ক্যালসিয়াম থাকে মাত্র ২১ মিলিগ্রাম। এছাড়া পান্তা ভাতে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে হয় ৩০৩ মিলিগ্রাম যেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে সোডিয়াম থাকে ৪৭৫ মিলিগ্রাম। পান্তা ভাত ভিটামিন বি-৬ এবং ভিটামিন বি-১২ এর ভালো উৎস। পান্তাভাত শর্করাসমৃদ্ধ জলীয় খাবার। গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা ও সতেজ রাখে। জলীয় খাবার বলে শরীরের জলের অভাব মেটায় এবং শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় রাখে। পান্তা ভাত খেলে শরীর হালকা এবং কাজে বেশি শক্তি পাওয়া যায়, কারণ এটি ফারমেন্টেড বা গাঁজানো খাবার। মানবদেহের জন্য উপকারী বহু ব্যাকটেরিয়া পান্তা ভাতের মধ্যে বেড়ে ওঠে। পেটের রোগ ভালো হয়, কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয় এবং শরীরে সজীবতা বিরাজ করে এবং শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় থাকে। এ ভাতে পেটের পীড়া ভালো হয়, কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয় এবং শরীরে সজীবতা বিরাজ করে। পাশাপাশি শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় থাকে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>