দিনে ৩টি খেজুর খেলে কী হয়?

খেজুর খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুব কমই আছেন। শুধু স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নয়, বরং রোগ নিরাময়ের জন্যও খেজুরের জুড়ি মেলা ভার। এই খাবারে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর তন্তু, মিনারেল এবং ভিটামিন রয়েছে। এই উপাদানগুলো শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে না, একই সঙ্গে ডায়রিয়া এবং অন্ত্রের নানা সমস্যার সমাধানেও সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় তিনটি খেজুর রাখলে শরীরের কিছু পরিবর্তন ঘটে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ডেভিডউলফ ডটকম তুলে ধরেছে সেই পরিবর্তনগুলো।

হজমশক্তি ভালো হয় খেজুরে দ্রবণীয় তন্তু রয়েছে, যা হজমশক্তির উন্নতি ঘটিয়ে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় খেজুর। এতে পটাশিয়াম থাকায় তা বদহজম এবং ডায়রিয়া থেকেও রক্ষা করে। আসলে খেজুর আমাদের পাকস্থলীর মধ্যকার ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলোকে শক্তির জোগান দেয় বলেই এমনটি হয়ে থাকে।

রক্তস্বল্পতা রোধ বেশিরভাগ মানুষই রক্তস্বল্পতায় ভোগেন। এর চিকিৎসায় আয়রনের একটি চমৎকার উৎস হতে পারে খেজুর। ক্লান্তি দূর করতেও ভূমিকা রাখে খেজুর।

হাড়, রক্ত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি খেজুরে ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং সেলেনিয়াম রয়েছে। এদের মধ্যে সেলেনিয়াম ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। অন্য উপাদানগুলো হাড়কে মজবুত এবং রক্ত ভালো রাখতে সাহায্য করে।

শক্তি বাড়ায় খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি বিশেষ করে গ্লুকোজ, সুক্রোজ, ফ্রুক্টোজ বিদ্যমান রয়েছে। এই উপাদানগুলো শক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাজেই শক্তি বাড়াতে বিকেলের নাস্তায় খেজুর খেতেই পারেন।

হার্ট ভালো রাখে কোলেস্টরল হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে সাহায্য করে। খেজুরে পটাশিয়াম বিদ্যমান থাকায় তা খারাপ কোলেস্টরলের পরিমাণ কমিয়ে আনে। এর ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমে যায়। কাজেই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিদিনের ডায়েটে তিনটি খেজুর রাখতেই পারেন।

সবাই এখন যা পড়ছে :-  লিভার নষ্ট হয় বা পঁচে যায় কেন জানেন? রইলো ৯টি কারণ!  মানুষের দেহের প্রধান অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলোর মধ্যে অন্যতম হল লিভার। দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় লিভারের সুস্থতা অনেক জরুরী। কিন্তু কিছু বাজে অভ্যাসের কারণে প্রতিনিয়ত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে লিভার। এরই ফলাফল হিসেবে লিভার ড্যামেজের মতো মারাত্মক সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় অনেককেই। এই অঙ্গটি নষ্ট হওয়ার পিছনে কারণগুলি দেখে নেওয়া যাক:  ১. দেরি করে ঘুমোতে যাওয়া এবং দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা দুটোই লিভার নষ্টের কারণ। এতে শারীরিক সাইকেলের সম্পূর্ণ উল্টোটা ঘটতে থাকেএবং তার মারাত্মক বাজে প্রভাব পরে লিভারের উপরে।  ২. অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেও কুড়েমি করে প্রস্রাবের বেগ হলেও বাথরুমে না গিয়ে তা চেপে শুয়েই থাকেন। এতে লিভারের উপরে চাপ পড়ে এবং লিভার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়।  ৩. অতিরিক্ত বেশি খাওয়া দাওয়া করা লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর । অনেকেই আবাব বহুক্ষণ সময় না খেয়ে একবারে অনেক বেশি বেশি করে খেয়ে ফেলেন। এতে হঠাৎ করে লিভারের উপরে চাপ বেশি পরে এবং লিভার ড্যামেজ হওয়ার আশংকা থাকে।  ৪. সকালের খাবার না খাওয়ায় লিভার পক্ষে ক্ষতিকর। যেহেতু অনেকটা সময় পেট খালি থাকার কারণে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পাশাপাশি খাদ্যের অভাবে কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে লিভারও।  ৫. অনেক বেশি ঔষধ খেলে লিভার নষ্ট হয়৷ বিশেষ করে ব্যথানাশক ঔষধের জেরে লিভারের কর্মক্ষমতার হ্রাস পায়ে। এছাড়াও ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ক্ষতি হয় লিভারের। এতে করে লিভার ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়।  ৬. কেমিক্যাল সমৃদ্ধ যেকোনো কিছুই লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু আলসেমি ও মুখের স্বাদের জন্য আমরা অনেকেই প্রিজারভেটিভ খাবার, আর্টিফিশিয়াল ফুড কালার, আর্টিফিশিয়াল চিনি ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলি যা লিভার নষ্টের অন্যতম কারণ।  ৭. খারাপ তেল ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একই তেলে বারবার ভাজা খাবার বা পোড়া তেলের খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে লিভার তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে।  ৮.অতিরিক্ত কাঁচা খাবার খাওয়াও লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যেমন আপনি যদি খুব বেশি কাঁচা ফলমূল বা সবজি খেতে থাকেন তাহলে তা হজমের জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হয় পরিপাকতন্ত্রের। এর প্রভাব পড়ে লিভারের উপরেও। সুতরাং অতিরিক্ত খাবেন না।  ৯. অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্য পান করা লিভার নষ্টের আরেকটি মূল কারণ। অ্যালকোহলের ক্ষতিকর উপাদান সমূহ লিভারের মারাত্মক ক্ষতির কারণ।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>